দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়ক উন্নয়নের নামে নির্বিচারে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’। সংগঠনটির দাবি, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস বন্ধ করে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ-সাচনাবাজার সড়কের ইচ্ছারচর এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক উন্নয়নের কথা বলে অযৌক্তিকভাবে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এক হাজারের বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ওই সড়কে কোনো উন্নয়নকাজ চলমান না থাকলে কোন প্রকল্পের আওতায় এসব গাছ কাটা হচ্ছে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমদ বলেন, সড়ক উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটার বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন। কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় গাছ কাটার অনুমোদন থাকলেও পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি গাছ শুধু কাঠ নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ এমনিতেই নানা কারণে হুমকির মুখে। এর মধ্যে সড়কের দুই পাশের গাছ কেটে ফেলা হলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন বলেন, উন্নয়নের নামে নির্বিচারে বৃক্ষনিধন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সড়কের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করতে হলে গাছ ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।
কর্মসূচিতে সংগঠনের সভাপতি রাজু আহমদ, সহসভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম মজনু ও ওবায়দুল মুন্সী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন, মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এম ডি জাকারিয়া, ছাতক উপজেলা কমিটির সদস্যসচিব সুজন তালুকদার এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সদস্য মোফাজ্জল হাসানসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
এদিকে সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গাছ পরিপক্ব হলে তা কাটার প্রয়োজন হয়। সময়মতো গাছ না কাটলে সেগুলো মরে যেতে পারে। তবে গাছ কাটার পর সেখানে আবার গাছ লাগানো হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সড়ক উন্নয়নের প্রয়োজন থাকলে তা পরিবেশবান্ধব উপায়ে করতে হবে। পাশাপাশি ইতোমধ্যে কেটে ফেলা গাছের বিষয়ে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রায় ৪ হাজার ৫০০ গাছ কাটার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকৃত চিত্র, গাছ কাটার অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এমএস/